ঢাকা জানুয়ারি মাসের হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। উত্তর জনপদ থেকে শুরু করে দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা। আবহাওয়াবিদ এবং আবহাওয়া গবেষকদের তথ্যমতে, দেশের অধিকাংশ অঞ্চলের ওপর দিয়ে এখন শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা চলতি মাসে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
মোস্তফা কামাল পলাশের বিশ্লেষণ ও কুয়াশা পরিস্থিতি
আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহের চিত্র বিশ্লেষণ করে এক উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়েছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে শৈত্যপ্রবাহের প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বুধবার ভোরেই রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৬১টি জেলা এখন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে। কেবল ফেনী, সিলেট ও সুনামগঞ্জ ছাড়া দেশের বাকি সব অঞ্চলেই কুয়াশার ঘন উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বাদে বাকি ৬টি বিভাগে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর ফলে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে দুপুর ১২টার আগে সূর্যের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস ও শৈত্যপ্রবাহ
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙামাটি, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাগুলোর ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যালোক পৌঁছাতে না পারায় হাড়কাঁপানো শীতের অনুভূতি বজায় থাকবে।
যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন
ঘন কুয়াশার প্রভাবে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় ফেরি চলাচল এবং দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৫ দিনের গতিপ্রকৃতি
আবহাওয়া অফিসের পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার আভাস রয়েছে। তবে জানুয়ারি মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, চলতি মাসে দেশের ওপর দিয়ে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। কিছু কিছু স্থানে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গিয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে।
মাঠ পর্যায়ের কৃষি ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই হাড়কাঁপানো শীত ও কুয়াশা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।


