ব্রিটিশ নাগরিক হলেও হলফনামায় উল্লেখ করেননি ২ প্রার্থী: টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া কয়েকজন প্রার্থী তাদের নির্বাচনি হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্ব ও সম্পদ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অন্তত দুজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলেও তারা হলফনামায় সে তথ্য উল্লেখ করেননি। টিআইবির কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ওই দুই প্রার্থী ব্রিটিশ নাগরিক।

এই তথ্য উঠে এসেছে টিআইবির প্রকাশিত ‘নির্বাচনি হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটির মূল তথ্য তুলে ধরা হয়। এ সময় বক্তব্য দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এবং সংস্থাটির কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

তবে যেসব প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে, তাদের নাম প্রকাশ করেনি টিআইবি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান জানান, সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে সংশ্লিষ্ট তথ্য টিআইবির কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

হলফনামায় সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য গোপনের প্রসঙ্গে টিআইবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একজন প্রার্থীর নির্ভরশীলদের নামে যুক্তরাজ্যে ২০১৩ সালে কেনা প্রায় ১ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের একটি বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে, যা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী বাড়িটি কেনার ক্ষেত্রে একটি ‘শেল কোম্পানি’ ব্যবহার করা হয়েছিল, যার মালিকানা সংক্রান্ত নিবন্ধন দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের নামে দেখানো হয়েছে।

টিআইবির পর্যবেক্ষণে আরও উঠে এসেছে, একজন প্রার্থী বিদেশে নিজের নামে কোনো সম্পদের ঘোষণা না দিলেও তার স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা রয়েছে। অন্য এক প্রার্থী বিদেশে তিনটি ফ্ল্যাটের মালিকানা থাকার কথা উল্লেখ করলেও বাস্তবে তার মালিকানাধীন ফ্ল্যাটের সংখ্যা অন্তত তিন গুণ বেশি এবং সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের সম্ভাব্য পরিমাণ প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।

এছাড়া আরেকজন প্রার্থী বিদেশে নিজ মালিকানায় কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কথা স্বীকার না করলেও অনুসন্ধানে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ১১টি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার মধ্যে আটটি সক্রিয় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত বলে জানিয়েছে টিআইবি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একজন প্রার্থীর নামে করস্বর্গে নিবন্ধিত কোম্পানির পুরোনো তথ্য প্রকাশ্যে থাকলেও হলফনামায় এ বিষয়ে কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে গণভোটও আয়োজন করা হবে।

Leave a Comment