পেন্টাগনের নতুন জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অগ্রাধিকারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। চার বছর পরপর প্রকাশিত এই গুরুত্বপূর্ণ নথিতে জানানো হয়েছে, চীনকে আর ওয়াশিংটনের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
বরং নতুন কৌশলে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং পশ্চিম গোলার্ধের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত ৩৪ পৃষ্ঠার এই জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের প্রকৃত স্বার্থ উপেক্ষা করে এসেছে। এবার সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে পেন্টাগন।
নথিতে মার্কিন মিত্রদের জন্যও একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে মিত্র দেশগুলোকে দেওয়া সামরিক সহায়তা সীমিত করা হবে। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোকে বলা হয়েছে—যেসব হুমকি তাদের জন্য গুরুতর হলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ, সেসব বিষয়ে নিজেদেরই নেতৃত্ব নিতে হবে।
প্রতিরক্ষা কৌশলে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনেক মিত্র দেশ মার্কিন অর্থ ও সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে, যা আর অব্যাহত থাকবে না। তবে একে বিচ্ছিন্নতাবাদ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের আলোকে একটি ‘বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে পেন্টাগন।
চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংঘাত নয়, বরং শক্তির মাধ্যমে ভারসাম্য বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য চীনকে দুর্বল করা বা অপমান করা নয়; বরং কোনো রাষ্ট্র যেন যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে, সেটিই নিশ্চিত করা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, নতুন এই প্রতিরক্ষা কৌশলে তাইওয়ানের কোনো উল্লেখ নেই, যা আগের নথিগুলোতে নিয়মিত থাকত। অন্যদিকে প্রায় চার বছর ধরে ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানো রাশিয়াকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সরাসরি হুমকি না বলে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্যদের জন্য একটি ‘নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন নীতিতে পানামা খাল, মেক্সিকো উপসাগর এবং গ্রিনল্যান্ডের মতো কৌশলগত অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পেন্টাগন এই অবস্থানকে ‘কঠোর বাস্তববাদ’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী আদর্শবাদী চিন্তাধারার যুগ শেষ। তবে এই নীতিগত পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সতর্ক করে বলেন, পুরনো বিশ্বব্যবস্থা আর ফিরে আসবে না। নিয়মহীন এক বিশ্বে পরিণত হওয়া ঠেকাতে মাঝারি শক্তির দেশগুলোর এখনই ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।


