যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। এসব হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ড্রোন হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে এক চিকিৎসা সূত্র জানায়, উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছে আল-জাওয়ারা পরিবারের দুই কিশোর—১৪ বছর বয়সি সালমান জাকারিয়া ও ১৫ বছর বয়সি মোহাম্মদ ইউসুফ—ইসরাইলি বোমা হামলায় নিহত হন। তারা বেইত লাহিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আনাদোলুকে জানান, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইসরাইলি সেনারা যে এলাকা থেকে সরে গিয়েছিল, সেই এলাকাতেই ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ওই দুই কিশোর প্রাণ হারায়।
এর আগে উত্তর গাজার জাবালিয়া শহরের ওল্ড গাজা স্ট্রিটে ইসরাইলি হামলায় কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হন বলে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা বিভাগের একটি সূত্র আনাদোলুকে জানিয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ার আল-সালাতিন এলাকায় ইসরাইলি গুলিতে এক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া খান ইউনিসের দক্ষিণে কিজান আল-নাজ্জার এলাকায় ইসরাইলি হামলায় আরও এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে শনিবার সকালে দক্ষিণ গাজার মধ্যাঞ্চলীয় খান ইউনিসে ইসরাইলি গুলিতে এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তির মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে বলে চিকিৎসা সূত্র জানায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শহরের কেন্দ্রস্থলে জাসের বিল্ডিং মোড়ে একটি ইসরাইলি কোয়াডকপ্টার ড্রোন থেকে গুলি চালানো হলে এ ঘটনা ঘটে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চালানো ভয়াবহ আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ অভিযানে আহত হয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ, আর গাজা উপত্যকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরাইল হামলা অব্যাহত রেখেছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত আরও ৪৮১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ৩১৩ জন আহত হয়েছেন।


