যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভে উত্তাল,গভর্নরের দাবি এজেন্টদের সরাতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে আরেক মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার পর রাজ্য থেকে ইমিগ্রেশন এজেন্ট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ।

স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) মিনিয়াপোলিস শহরে চলমান এক প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের গুলিতে প্রাণ হারান ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেট্টি। তিনি পেশায় একজন আইসিইউ নার্স ছিলেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। চলতি মাসে মিনেসোটায় ফেডারেল এজেন্টদের অভিযানে এটি দ্বিতীয় কোনো মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় গভর্নর টিম ওয়ালজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে রাজ্যে মোতায়েন থাকা প্রায় তিন হাজার আইসিই এজেন্ট সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, শান্তি ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মিনেসোটা রাজ্য আর কোনো নাগরিকের রাস্তায় নিহত হওয়া মেনে নেবে না। একই সঙ্গে তিনি জানান, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসন আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান নেতারা ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং এই পরিস্থিতিতে আইসিই কর্মীদের ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি ডেমোক্র্যাটদের আইসিই’র বাজেট বাতিলের হুমকিকে দায়িত্বহীন সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘সোশ্যাল ট্রুথ’-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, গভর্নর টিম ওয়ালজ ও মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রে’র উচিত রাজ্যের কারাগারে আটক সব বন্দিকে বহিষ্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা।

অ্যালেক্স প্রেট্টির মৃত্যুর প্রতিবাদে মিনিয়াপোলিসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা শহর ত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

স্থানীয় সিটি সেন্টারের সামনে অনুষ্ঠিত আইসিইবিরোধী কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়। তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায় এবং সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালকরাও হর্ন বাজিয়ে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

Leave a Comment