বিপিএলে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে বাস্তবে সেই অবস্থান কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো পুরো পারিশ্রমিক পাননি ঢাকা ক্যাপিটালসের একাধিক ক্রিকেটার। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মুখ খুলেছেন দলের দুই ক্রিকেটার শামীম পাটোয়ারী ও তাসকিন আহমেদ। তাদের অভিযোগ, চুক্তিভিত্তিক পারিশ্রমিকের অর্ধেক টাকাও এখনো হাতে পাননি তারা।
শুধু ঢাকা ক্যাপিটালস নয়, সিলেট টাইটান্স ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে খেলা কিছু ক্রিকেটারের মধ্যেও পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে শামীম পাটোয়ারী জানান, ৫৬ লাখ টাকার চুক্তির বিপরীতে তিনি এখন পর্যন্ত মাত্র ২৩ লাখ টাকা পেয়েছেন। অন্যদিকে তাসকিন আহমেদ বলেন, এক কোটি টাকার চুক্তির বিপরীতে তার হাতে এসেছে মাত্র ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ দুজনই মোট পারিশ্রমিকের ৫০ শতাংশের কম পেয়েছেন। এ তালিকায় ঢাকা ক্যাপিটালসের আরও কয়েকজন দেশি ক্রিকেটার রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পারিশ্রমিক প্রসঙ্গে শামীম পাটোয়ারী বলেন, তারা এখনো শতভাগ টাকা পাননি এবং কবে পাবেন, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন গণমাধ্যমকে জানান, টুর্নামেন্ট চলাকালে সবাই ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। পরে আরও তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়। এর পর থেকে আর কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।
মিঠুন জানান, পারিশ্রমিকের অংশ হিসেবে তারা চেক পেয়েছেন ঠিকই, তবে নির্ধারিত তারিখে চেক জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও নতুন কোনো তারিখ জানানো হয়নি। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শুধু “চেষ্টা করা হচ্ছে” এমন আশ্বাসই পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগের প্রসঙ্গে মিঠুন বলেন, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু তাকে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পারিশ্রমিক পরিশোধ না হলে দলগুলোর জমা রাখা ব্যাংক গ্যারান্টি ভেঙে ক্রিকেটারদের টাকা পরিশোধ করা হবে।
অন্যদিকে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য ও বিসিবি পরিচালক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তবে গণমাধ্যমে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না পাওয়ার খবর তার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে জানতে গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে ঢাকা ক্যাপিটালসের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য দেয়নি।

