দেশের বিভিন্ন জেলায় হাতবোমা তৈরি ও এর গোপন নেটওয়ার্ক শনাক্ত

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান চললেও অপরাধী চক্রের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন জেলায় হাতবোমা তৈরির সঙ্গে জড়িত একটি গোপন নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব চক্রে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং বিশেষ ব্যবস্থায় এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় বোমা সরবরাহ করা হচ্ছে—কখনো সড়কপথে, কখনো নৌপথে। জেলা পর্যায়ে বোমা তৈরির কাজে ভাড়ায় লোকও নিয়োগ করা হয় বলে তথ্য মিলেছে।

দেশজুড়ে নাশকতাকারীদের শনাক্ত ও আটক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তবে হাতবোমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি জানান, কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় বাজার থেকেই প্রয়োজনীয় উপকরণ ও রাসায়নিক সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।

নজরদারি এড়াতে অপরাধীরা যাতায়াত ও পরিবহনের পথ ঘনঘন পরিবর্তন করে থাকে, যেখানে নৌপথ বেশি ব্যবহার করা হয়। বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত কিছু উপাদান খোলা বাজারেই পাওয়া যায়, যা পরবর্তী ধাপে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট একজন কারিগরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রভাব বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে আতঙ্কিত করতে ভিন্ন মাত্রার হাতবোমা তৈরি করা হয়। পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা এগুলো সংগ্রহ করে থাকেন। একাধিক কারিগর এই কাজে যুক্ত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এসব বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই নেটওয়ার্কগুলো দ্রুত নিষ্ক্রিয় না করা গেলে আসন্ন নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে খোলা বাজারে রাসায়নিক বিক্রির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের তাগিদ দিয়েছেন তারা।

অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে অন্যরাও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ জানান, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা জরুরি এবং নাগরিকদেরও সতর্ক থাকতে হবে। যারা এসব উপকরণ বিক্রি করে, তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় হাতবোমা উদ্ধার ও বিস্ফোরণের ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নাশকতা প্রতিরোধে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমান রাসেল জানান, বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নাশকতা প্রতিরোধে কেবল বাহিনীর তৎপরতাই নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Comment