রোনালদোর স্বীকারোক্তি: মেসিকে ২০১৪ বিশ্বকাপ জেতা না দেখার ‘স্বস্তি’ ও ফুটবল বিশ্বে বিতর্ক

ফুটবল বিশ্বের দুই সুপারস্টার— ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি—এর দ্বৈরথ ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার বিষয়। সম্প্রতি রোনালদোর একটি প্রামাণ্যচিত্রে দেওয়া মন্তব্য আবার নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। সেখানে পর্তুগিজ তারকা স্বীকার করেছেন, ২০১৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসি শিরোপা না জেতায় তিনি এক ধরনের ‘স্বস্তি’ অনুভব করেছিলেন। এমনকি প্রার্থনা করেছিলেন যেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন না হন।
২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলের মাটিতে আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে মারিও গোটজের গোলে জার্মানির কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায়। সেই হারের মাধ্যমে মেসির তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায়। প্রামাণ্যচিত্রে রোনালদো জানিয়েছেন, ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর তাঁর মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি কাজ করেছিল।
এই স্বীকারোক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে এটিকে ক্রীড়া-প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্বাভাবিক প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতার তীব্রতা হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
তবে সেই ‘স্বস্তি’ রোনালদোর জন্য দীর্ঘমেয়াদে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। আট বছর পর, ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে মেসি কাতারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। লুসাইলে আর্জেন্টিনা ফ্রান্সের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ফাইনালে ৩-৩ সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে ট্রফি জিতে নেয়। ফাইনালে মেসি দুটি গোল করেন এবং টাইব্রেকারেও সফল হন। পুরো টুর্নামেন্টে সাত গোল করে গোল্ডেন বুটে দ্বিতীয় হন, যেখানে কিলিয়ান এমবাপ্পে ফাইনালে হ্যাটট্রিকসহ আট গোল করে প্রথম হন।
কাতারের সেই রাতকে অনেকেই আধুনিক যুগের ‘সেরা কে’ নিয়ে বিতর্কের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন। মেসির হাতে আসা প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি তাঁর অসামান্য ক্যারিয়ারের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
তবে দুই মহাতারকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু বিশ্বকাপে সীমাবদ্ধ নয়। ক্লাব ফুটবলে এল ক্লাসিকো, ব্যালন ডি’অরের লড়াই, গোলের রেকর্ড—সব মিলিয়ে রোনালদো ও মেসি ফুটবলকে তাদের আলোকোজ্জ্বলতায় উজ্জ্বল করে রাখছেন।
ফুটবল বিশ্বে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনো সমালোচক এবং ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা ও আলোচনা উদ্রেক করে চলেছে। ⚽✨

Leave a Comment