৪৫ মিনিটে এক্স অ্যাকাউন্ট উদ্ধার, যেখানে এক দিন থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগা স্বাভাবিক

কর্মজীবী নারীদের প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। ওই পোস্টের পর অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের দাবি নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে তা পুনরুদ্ধার করতে একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়, যা সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় নিতে পারে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী জানায়, বিতর্কিত পোস্টটি আমির বা তার অ্যাকাউন্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কেউ দেননি। দলটির দাবি, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে স্বল্প সময়ের জন্য ওই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল এবং সেই সময়েই পোস্টটি প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর ৪৫ মিনিটের মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি হ্যাকারদের কবল থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

তবে পোস্ট প্রকাশের প্রায় নয় ঘণ্টা পর আইডি হ্যাকের দাবি তোলাকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। কর্মজীবী নারীদের অবমাননার অভিযোগ তুলে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ মিছিলও করেছে।

আইডি হ্যাক হওয়ার পর এত দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার দাবিকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা জানান, এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ইমেইলে হ্যাকিংয়ের আইপি সংক্রান্ত তথ্য পাঠায়। হ্যাক নিশ্চিত হলে অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে লক করা হয় এবং পরিচয় যাচাইয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স জমা দিতে বলা হয়। কিছু ক্ষেত্রে মুখমণ্ডল যাচাইও করা হয়। সব যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের জন্য রিসেট লিংক পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত একটি হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট বৈধ উপায়ে ফেরত পেতে তিন স্তরের অথেনটিকেশন প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়। এতে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে, কখনো ৭২ ঘণ্টা, আবার কিছু ক্ষেত্রে ৭ থেকে ১০ দিন কিংবা সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে এক দিন থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগা স্বাভাবিক।

এর আগে সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামীর আমির পদে নারীর আসার সম্ভাবনা নেই—এমন বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন ডা. শফিকুর রহমান।

Leave a Comment