আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ইরান–যুক্তরাষ্ট্র ওমানে আলোচনায় বসবে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে—তা নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। দুই দেশ আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। শুরুতে বৈঠকটি ইস্তাম্বুলে হওয়ার কথা থাকলেও তেহরানের প্রস্তাবের পর স্থান পরিবর্তন করা হয়। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে স্পষ্ট ভিন্নতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে পরমাণু কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চায়, সেখানে ইরান কেবল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে কাতার, তুরস্ক ও মিশর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় একটি খসড়া প্রস্তাব সামনে এনেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান তিন বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখবে এবং মজুতকৃত ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘অনাক্রমণ চুক্তি’ সইয়ের কথা বলা হয়েছে।

ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হওয়া এবং তেহরানের পাল্টা কঠোর বক্তব্যে যুদ্ধের শঙ্কা বাড়লেও, আলোচনার উদ্যোগে সংঘাত এড়ানোর সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, উত্তেজনার মধ্যেই দুই দেশ আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।

এর আগে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, ইস্তাম্বুলে নির্ধারিত বৈঠকটি ওমানে সরানো এবং একান্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ইরানি প্রস্তাব হোয়াইট হাউস নাকচ করেছিল। তবে পরে আরব নেতাদের অনুরোধে মার্কিন প্রশাসন ওমানে আলোচনায় বসতে রাজি হয় বলে নিশ্চিত করা হয়।

আলোচনার এজেন্ডা নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইরান পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, তারা কেবল পরমাণু কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করবে। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে কোনো আলোচনা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, কার্যকর কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা এবং দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকেও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর খসড়া প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ইরান আগামী তিন বছর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখবে এবং সংরক্ষিত ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে হস্তান্তর করবে।

এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অনাক্রমণ চুক্তি কার্যকর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা না চালানোর অঙ্গীকার করবে। তবে এই প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো তেহরান বা ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

Leave a Comment