ছুটির জন্য ক্ষতির ঝুঁকিতে পোশাক খাত

ট্যারিফ–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অর্ডার কমে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই দীর্ঘ সময়ের বন্ধের চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প। নিয়মিত সরকারি ছুটি, জাতীয় নির্বাচন ও ঈদের ছুটির কারণে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ—এই দুই মাসে মোট কর্মদিবস নেমে এসেছে মাত্র ৩৫ দিনে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে সাম্প্রতিক শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতির প্রভাব, যা শিল্পখাতটির ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতি ও একাধিক সরকারি বন্ধের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। যেসব অর্ডার আসছে, সেগুলোর শিপমেন্টেও দেখা দিচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা। চলতি ফেব্রুয়ারি ও আসন্ন মার্চ মাসজুড়েই ধারাবাহিকভাবে সরকারি ছুটি থাকায় উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে প্রায় এক মাস উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে, যা কারখানাগুলোর ওপর বড় চাপ তৈরি করবে। অনেক প্রতিষ্ঠান এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এরই মধ্যে ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দুই দিনের সরকারি ছুটি। এর আগে ৪ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে ছুটি ছিল। বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী জানান, নির্বাচনের কারণে পরবর্তী মৌসুমের অর্ডার এখনো পুরোপুরি আসেনি। তবে নির্বাচন শেষে তুলনামূলক ভালো অর্ডার পাওয়ার সম্ভাবনার কথা ক্রেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে টানা সাত দিন শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে রফতানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের গার্মেন্টস কারখানাগুলোর পরিস্থিতি প্রায় একই। আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদন সম্পন্ন হলেও তৈরি পোশাক রফতানির অপেক্ষায় রয়েছে।
বিজিএমইএর তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারি মাসে ২৮ দিনের মধ্যে মাত্র ১৬ দিন কর্মদিবস পাওয়া যাবে। এর মধ্যে নির্বাচন, সাপ্তাহিক ছুটি এবং ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবসের ছুটি রয়েছে। মার্চ মাসে থাকবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পাঁচ দিনের ছুটি এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের সরকারি বন্ধ।
বিজিএমইএর পরিচালক এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, সময়মতো ক্রেতাদের অর্ডার সরবরাহ করা না গেলে অর্ডার বাতিল, মূল্যছাড়সহ নানা জটিলতায় পড়তে হতে পারে। এর প্রভাব শুধু বর্তমান অর্ডারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ভবিষ্যতের ব্যবসাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশের সংখ্যা কম নয়।
অন্যদিকে, বন্ধের দিনগুলোতে কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে শিল্প পুলিশ। চট্টগ্রাম শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, পুলিশ স্টেশনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত টহল চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি গার্মেন্টস কারখানাগুলোর সিসিটিভি মনিটরিং করা হচ্ছে। বর্তমানে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা না থাকলেও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
বর্তমানে ঢাকা-গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের প্রায় ২ হাজার ১০০টি গার্মেন্টস কারখানায় প্রায় ৩৩ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। চট্টগ্রামে ৪৬৪টি কারখানায় কর্মরত রয়েছেন প্রায় ১১ লাখ শ্রমিক। এছাড়া দেশের আটটি ইপিজেডে রয়েছে প্রায় ৬০০টি গার্মেন্টস কারখানা।

Leave a Comment