মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশের পর আত্মহত্যা করেছেন এক ইরানি তরুণ। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তিতে না যাওয়ার আহ্বান জানান।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ওই তরুণের নাম পুরিয়া হামিদি। প্রায় ১০ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের ইংরেজি ভাষার ভিডিওতে তিনি ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও সরকারের দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন। হামিদি ইরানের বুশেহর প্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘পোরওয়াই এক্স’-এ ভিডিওটি প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওর ক্যাপশনে হামিদি লেখেন, “এটাই আমার আত্মত্যাগ—দয়া করে আমার দেশকে মুক্ত করো।”
বার্তায় তিনি দাবি করেন, ইরানে চলমান দমন-পীড়নে রাশিয়া-ইউক্রেন কিংবা ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের চেয়েও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বকে সরাসরি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনামলের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা হলে তা বিক্ষোভে নিহতদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে।
ভিডিওতে হামিদি বলেছেন,“এই চুক্তি বন্ধ করতে যা করা সম্ভব আপনার পক্ষে, তাই করুন – আমি আপনাকে অনুরোধ করছি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একসময় ইরানিদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছিলেন এবং সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েই জনগণ রাস্তায় নেমেছিল। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর মুখে সাধারণ মানুষের পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব এবং বাইরের সহায়তা ছাড়া বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে জয় সম্ভব নয়।
ভিডিওতে তিনি বলেন, “আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপই এখন আমাদের একমাত্র আশা। আমরা একা এই শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারছি না।”
ভিডিওর শেষ অংশে তিনি ফার্সি ভাষায় ইরানিদের উদ্দেশে বলেন, জনগণ যেন একে অপরের পাশে দাঁড়ায়। “আমরা একা, আমাদের কেউ নেই—তাই একে অপরকে সমর্থন করুন। ইরান দীর্ঘজীবী হোক,”—এই বক্তব্য দিয়েই ভিডিওটি শেষ করেন তিনি। ইরান ইন্টারন্যাশনাল এ তথ্য জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা যায়। শুরুতে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে আন্দোলন শুরু হলেও পরবর্তীতে তা সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের মুখে সহিংস রূপ নেয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে হাজারো মানুষের নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
এই বিক্ষোভের পর ইরান সরকার যখন আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, ঠিক সেই সময় হামিদির মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। একইসঙ্গে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে পারমাণবিক আলোচনা শুরুর উদ্যোগও চলছে।