ঢাকা-৮ আসনে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৫ হাজার ২০৯। বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হলেও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। নির্বাচনী ফলাফল তাকে থামিয়ে দেয়নি—বরং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে তার সামনে খুলে যেতে পারে ভিন্ন এক পথ।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট, যা আসনটিতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দেয়।
‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী প্রস্তাবিত ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষে (সিনেট) দলগুলোর মোট প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হারের ভিত্তিতে আসন বণ্টনের কথা রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোট ২২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩১ ভোট পেয়েছে, যা মোট ভোটের ৩.২১ শতাংশ। এই হিসাবে দলটি উচ্চকক্ষে অন্তত তিনটি আসন পেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য মনোনয়ন তালিকায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম শীর্ষে রয়েছে। এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে দল ও জোটের ভেতরে আলোচনা চলছে; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরেকটি সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। সামনে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নাসীরুদ্দীন যদি ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে উচ্চকক্ষের সদস্য হওয়ার বিষয়টি ভিন্ন পথে মোড় নিতে পারে।
এখন প্রশ্ন—তিনি কি সংসদের উচ্চকক্ষে নীতিনির্ধারণী ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, নাকি নগর রাজনীতির লড়াইয়ে অংশ নেবেন? সিদ্ধান্ত যাই হোক, তা নির্ধারণ করবে তার পরবর্তী রাজনৈতিক অধ্যায়ের দিকনির্দেশনা।
