নিউ ইয়র্ক জয় করলো প্যালেস্টাইন রেস্তোরাঁ

করোনা মহামারি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কেও একদিকে যেমন বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেছে, অন্যদিকে মানুষের চাকরি, ব্যবসা ও দৈনন্দিন জীবনেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। এমনই এক পরিবর্তনের গল্প নিউ ইয়র্ক সিটির বাসিন্দা মিসরীয়–আমেরিকান উদ্যোক্তা আব্দুল এলেনানির। শৈশব থেকেই তিনি দৃঢ়তা ও সংগ্রামের শিক্ষা নিয়ে বড় হয়েছেন।

২০১৪ সালে নিউ ইয়র্কের মিটপ্যাকিং ডিস্ট্রিক্টে তিনি ‘মিশেলিন গাইড’-এর মানদণ্ড অনুসরণ করে একটি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক রেস্তোরাঁ চালু করেন। খাবার ও সংস্কৃতির মাধ্যমে তিনি ফিলিস্তিনের দখলদারিত্বের বাস্তবতা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। তবে সে সময় প্রকাশ্যে এটিকে ফিলিস্তিনি রেস্তোরাঁ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার সাহস তাঁর ছিল না।

পরবর্তী সময়ে তাঁর কফি ও খাবারের ব্যবসা বিস্তৃত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০টি আউটলেটে পৌঁছায়। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে কফি চেইন ও কোকো গ্রাইন্ডার বন্ধ হয়ে গেলে আয়াতের আউটলেটগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। মানসিকভাবে দৃঢ় আব্দুল মিডল ইস্ট আইকে জানান, তিনি করোনা ও করোনা-পরবর্তী সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হন।

সেই সময় ব্রুকলিনের বে রিজ এলাকায় তিনি একটি সুপার মার্কেট চালু করেন। একদিন এক প্রতিবেশী তাঁকে রাস্তার ওপারে একটি ট্যানিং সেলুন খোলার প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাব তাঁকে ভাবতে বাধ্য করে, কারণ তাঁর মনে তখন একটি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক রেস্তোরাঁ চালুর পরিকল্পনা ঘুরপাক খাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদলে তিনি সাহসের সঙ্গে একটি ফিলিস্তিনি খাবারের দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নেন। আব্দুল বলেন, “আমি ভেবেছিলাম, এবার ফিলিস্তিন নিয়ে সরাসরি ও সাহসী হব—পরে যা হওয়ার হবে।” সেই ভাবনা থেকেই ২০২০ সালে ‘আয়াত’-এর যাত্রা শুরু হয়।

আব্দুল জানান, রেস্তোরাঁটির নামকরণ করা হয়েছে তাঁর ফিলিস্তিনি–আমেরিকান স্ত্রী আয়াত মাসুদের নামে। পেশায় আইনজীবী হলেও তিনি এই উদ্যোগের সহপ্রতিষ্ঠাতা। নিজের নামে রেস্তোরাঁ দেখে আবেগে আপ্লুত হয়েছিলেন মাসুদ আয়াত। এখানে মূলত ফিলিস্তিন ও আশপাশের অঞ্চলের খাবার পরিবেশন করা হয়। তাঁর স্ত্রীর পরামর্শে ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘মাকলুবা’—ভাত, মাংস ও শাকসবজি দিয়ে তৈরি এক পাত্রের ঐতিহ্যবাহী খাবার, যা পরিবেশনের সময় উল্টে দেওয়া হয়। মাসুদ জানান, এসব রেসিপি তিনি পেয়েছেন তাঁর মায়ের কাছ থেকে।

বর্তমানে ব্রুকলিন ছাড়াও ম্যানহাটনে সাতটি এবং নিউ জার্সিতে একটি শাখা রয়েছে। পাশাপাশি ওয়াশিংটন ডিসি, ডালাস ও ফিলাডেলফিয়ায় নতুন শাখা খোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ডালাসের শাখাটি জানুয়ারির শেষ দিকে চালু হওয়ার কথা।

‘আয়াত’ চালুর পর আব্দুল ফিলিস্তিন বিষয়ে মানুষের আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়তে দেখেন। তিনি জানান, অনেকেই আগে ‘প্যালেস্টাইন’ বা ‘ফিলিস্তিন’ শব্দটির সঙ্গে তেমন পরিচিত ছিলেন না। কেউ কেউ এখানকার খাবারকে পাকিস্তানি খাবার ভাবতেন, এমনকি ফিলিস্তিনকেও পাকিস্তান মনে করতেন। বিশেষ করে গাজায় ইসরাইলের গণহত্যার সময় আয়াতের পরিচিতি আরও বেড়ে যায় এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনও দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পায়

Leave a Comment